প্রকল্প সমূহ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ ই-পরিষেবা
পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র(সিআরপি) থেকে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মেরুদণ্ডের সমস্যার(Spinal Cord Injury) রোগীকে এবং প্রায় ৫০ হাজার অন্যান্য নানা রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এই রোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাদেরকে কীভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় কীভাবে পুনর্বাসনের অংশ হিসাবে নানা রকম তথ্য প্রদান করা যায় এবং তাদের জন্য তথ্যে সহজ অভিগম্যতা নিশ্চিত করার জন্য সিআরপি’র সহায়তায় এ টু আই সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের প্রকল্প ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ই-পরিষেবা’ । প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিলেও একই রকমের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে এ টু আই।
3D Printer ব্যবহার করে মানুষের কৃত্রিম হাত ও পা তৈরি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা পৃথিবীর প্রায় ২.৭% মানুষ অঙ্গহানি সমস্যায় ভুগছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন জন্মগত ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রচুর মানুষের অঙ্গহানি ঘটে। পঙ্গু হাসপাতালসহ সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এদের চিকিৎসা দেয়া হলেও হানিত অঙ্গটি তাকে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হয় না, যার ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে কমে চলেছে। শুধুমাত্র ঢাকা অঞ্চলে এই রকম পঙ্গু ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। গুঁটি কয়েক ব্যক্তি অনেক টাকা খরচ করে উন্নত দেশগুলো থেকে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করে আনছে, কিন্তু তাতেও অনেক সময় দেরী হয়। সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের সহায়তায় কয়েকজন ব্যক্তি উদ্ভাবক মিলে সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে একটি অত্যাধুনিক থ্রি ডি প্রিন্টার তৈরি করেছে যা ব্যাবহার করে মানুষের কৃত্রিম হাত ও পা তৈরি করে তা মানব শরীরে সংযোজন করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিমেডিসিন প্রোগ্রাম
গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসকের অপর্যাপ্ততা আর প্রান্তিক মানুষের সামর্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে টেলিমেডিসিন ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ। যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারেরা শহরে বসেই গ্রামীণ রোগীদেরকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলে ও ছবি দেখে পরামর্শ দিতে পারবেন – বাংলাদেশে বেশ কটি দল এ চেষ্টা চালিয়েও যাচ্ছে। এ টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগে স্টেথোস্কোপ, ইসিজি ইত্যাদি অনলাইন যন্ত্র তৈরী করে কম্পিউটারে জুড়ে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নিজেরাই উন্নয়ন করেছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সারাদেশে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে এসি (ল্যান্ড) অফিসের মামলা নিষ্পত্তি পদ্ধতি সহজীকরণ
জটিল ভূমি ব্যবস্থাপনায় মামলাজটে বিপত্তিতে থাকেন সাধারণ মানুষ আর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে দালালের দৌরাত্ম্যও সেখানে বেশি। এমন অবস্থা থেকে কিছুটা মুক্ত হতে ‘এসএমএসে ভূমি অফিসের মামলা নিষ্পত্তির তথ্য’ দেওয়ার ব্যবস্থার করতে এই প্রকল্প।
ঢাকা জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ প্রদান পদ্ধতি (এসিপিএস) বাস্তবায়ন
ভূমি অধিগ্রহণ উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঢাকা জেলায় জমির এমন অধিগ্রহণ অন্যান্য সব জেলার থেকে সর্বোচ্চ। এ জেলায় দেশের মোট অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৭০শতাংশের মতো। ঢাকা জেলার ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগের জন্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ক্ষতিপূরণ প্রদানের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এর মাধ্যমে করা হবে। যাতে ব্যয় ও সময় বাঁচানোর পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ অফিস জনগণ এবং মানুষের কাছে অধিগ্রহণ অফিস কর্মকর্তাদের যাতায়াত কমে আসবে।
কেরানীগঞ্জের সরকারি জমির তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য অনলাইন ডাটাবেজ
সরকারি জমি কতটুকু আছে এবং কী অবস্থায় আছে তার একীভূত কোনো ডাটাবেস নাই। সে কারণে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে অনেক জমি। আবার লিজ দেওয়া জমিরও কোনো হিসাব এক জায়গায় নেই। ভূমি কর্মকর্তারাও সেভাবে ওয়াকিফহাল হন সরকারি সব জমি সম্পর্কে। সে কারণে ঢাকার কেরানিগঞ্জ এলাকায় সরকারি জমির অনলাইন ডাটাবেস তৈরি ও তথ্য বিতরণ।
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায়ের সিস্টেম
ভূমি কর নির্ধারণ ও আদায়ের প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। সেই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির বড় রকমের সুযোগ আছে। সেটা বন্ধ করার জন্য অনলাইন ভূমি কর নির্ধারণ ও আদায় পদ্ধতি। এই ভূমি কর নির্ধারণের ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ে সঠিক সেবা গ্রাহকদের নিকট পৌঁছানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ও সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্নীতি ও অপকর্ম কমানো সম্ভব হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যাবস্থাপনা
সনাতন পদ্ধতিতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ঢাকা শহরে ৫০ হাজারের অধিক ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্স নাই- এমন তথ্য আছে। এ কারণে সরকার শতাধিক কোটি টাকার রাজস্বও হারাচ্ছে। কিন্তু অনলাইনে সেই ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি গ্রহণ করলে এবং পদ্ধতিটি স্বয়ংক্রিয় হলে কাজটি সহজ হয়ে যাবে, সরকার কিংবা ব্যবসায়ী উভয়ের ক্ষেত্রে।
কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা
যে কোনো তথ্যের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে যাওয়ার সময় ও সুযোগ একজন কৃষকের থাকে না। এ কারণে কৃষি তথ্য সেবার জন্য তথ্যগুলোকে এক জায়গায় করে সেগুলো হালনাগাদকরণ, তথ্যের যাছাই ও সেগুলোর ব্যবহার করে কৃষকদের তথ্যসেবা দেওয়া দরকার। সে লক্ষ্যে কাজ ‘কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা’ প্রকল্পের।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ‘ই-সার্ভিস ডেলিভারি’
প্রচলিত ব্যবস্থায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সিটি কর্পোরেশনের সেবা নেওয়ার বিপরীতে অবস্থান এই ‘ই-সার্ভিস ডেলিভারি’ প্রকল্পের। এ টু আই-এর সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের আওতায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনে এই প্রকল্প চলমান থাকলেও এটা সম্পন্নের পর আইডিয়াটি অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। মোবাইল এসএমএস কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে নাগরিকরা মা ও শিশুর টিকা, যে কোন ধরনের বকেয়া প্রভৃতির তথ্য পেয়ে যাবেন।
ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন হোয়াইট বোর্ড
আনন্দের সাথে শিক্ষার মাধ্যমেই একটি শিশুর পূর্ণ শিক্ষা সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। অনেক ক্ষেত্রেই তা ক্লান্তিকর। আবার ব্ল্যাকবোর্ড ও হোয়াইট বোর্ডে চক ও মার্কারের ব্যবহার শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষে সহজে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। সেজন্য ’ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন হোয়াইট বোর্ড’ ব্যবহার হলে পাঠদান পদ্ধতি আরও সহজ হয়ে যাবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সের ডিজিটাল রেকর্ড ও পেমেন্ট সিস্টেম
ছোট থেকে বড় সব ব্যবসায়িক কাজে ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়ে। আবার এটা সিটি কর্পোরেশন কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় মাধ্যমে। কিন্তু সেক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মানুষ এটা থেকে দূরে থাকে। অন্যদিকে, তথ্য না থাকায় কার লাইসেন্স নবায়নের সময় হয়েছে তা বের করা সময়সাপেক্ষ। এই প্রকল্পে সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের ডিজিটাল রেকর্ড প্রস্তুত করার পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেম অনলাইনে করা হবে।