মাটির উপরের পানি ব্যাবহার করে সেচ



মাটির উপরের পানি ব্যাবহার করে সেচ

বাংলাদেশে মাটির উপরে পানির বিভিন্ন উৎসের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী, হ্রদ ও জলা, হাওর, বাঁওড়, খাল, বিল, ঝিল, দীঘি, পুকুর, প্লাবিত কৃষিজমি, পরিত্যক্ত নদীখাত, শুকনো নদীপৃষ্ঠ, খাড়ি, ঝর্ণা ও স্রোতজ বা গড়ান জলাভূমি। বাংলাদেশে এরূপ উৎস দেশের মোট ভূভাগের প্রায় অর্ধেক। সামগ্রিক আয়তন বিচারে দেশের নদী এলাকা ৭,৪৯৭ বর্গকিলোমিটার, খাড়িসমূহ ও স্রোতজ গড়ান জলমগ্নভূমি ৬,১০২ বর্গকিলোমিটার, বিল ও হাওর ১,১৪২ বর্গকিলোমিটার, বন্যাপ্লাবিত প্লাবনভূমি ৫৪,৮৬৬ বর্গকিলোমিটার, কাপ্তাই লেক ৬৮৮ বর্গকিলোমিটার, পুকুর ১,৪৬৯ বর্গকিলোমিটার, বাঁওড় ৫৫ বর্গকিলোমিটার এবং অন্যান্য মিলিয়ে প্রায় ৭২,০০০ বর্গকিলোমিটার। পাশাপাশি, সমগ্র বাংলাদেশে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মিলিমিটার বা সাড়ে ৬ ফুট বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

ইভেন্ট সমূহ:
  • মাটির উপরের পানি ব্যাবহার করে সেচ -2017

মাটির উপরের পানি ব্যাবহার করে সেচ - এর প্রকল্প সমূহের সংক্ষিপ্ত তালিকা


চর বা হাওড় এলাকায় মাটির উপরের পানি ব্যাবহার করে সেচের জন্য সোলার নৌকা
<span style="color: rgb(88, 102, 110); text-align: justify;">একটি ৪০ ফিট লম্বা নৌকা ব্যবহার করা হবে যার ছাদে ৩ কিলোওয়াট এর সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। নৌকার ভিতরে একটি ৩ HP এর একটি পাম্প ব্যবহার করা হবে এবং পাম্প কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে পাম্পটি চালানো হবে। পাইপ এর মাধ্যমে নদীর সেচকৃত পানি নির্বাচিত জমিতে আনা হবে। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী এবং এপ্রিল থেকে মে প্রয়োজন অনুসারে সেচ করা হবে।</span>
Utilizing monsoonal flooding water for dry season irrigation in haors
হাওর অঞ্চল<br><br> হাওরে রবি মৌসুমে আবাদযোগ্য জমি যা বর্ষা মৌসুমে বা বন্যার সময় পানির নিচে থাকে সে ধরনের ভূগর্ভস্থ পানির আধারে (Aquifer) ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পানি যান্ত্রিক (Injector) উপায়ে প্রবেশ করানো হবে। ভূগর্ভস্থ পানির আধারে (Aquifer) প্রবেশিত অতিরিক্ত পানি রবি মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা হবে।
Surface Water Irrigation in Hilly Areas.
পাহাড়ী অঞ্চল<br><br> হাইড্রলিক র‌্যাম পাম্প এর সাহায্যে ঝর্নার পানি ও বৃষ্টির পানি 4-৫০ মিটার উপরে উঠানো হবে। ঝর্ণার প্রবাহকে শক্তিতে রুপান্তর করে পাম্প চালানো হবে এবং পাহাড়ের চুড়ায় পানি উত্তোলন করা হবে।
পাহাড়ী স্রোতস্বিণী ঝর্ণার পানির শক্তিতেই ঝর্ণার পানিকে বহু উপরে উঠিয়ে সেচের ব্যবস্থা
পাহাড়ী অঞ্চল<br><br> Glockemann-320 পাম্প এর সাহায্যে ঝর্নার পানি ৬০০ ফুট উপরে উঠানো হবে। ঝর্ণার প্রবাহকে শক্তিতে রুপান্তর করে পাম্প চালানো হবে এবং পাহাড়ের চুড়ায় পানি উত্তোলন করা হবে।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সৌর সেচ
খরা অঞ্চল<br><br> বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের নকশার এবং প্রযুক্তিগত কিছু উন্নতি করে বৃষ্টির পানির ধারন ক্ষমতা বাড়ানো যাবে চাষযোগ্য জমি নষ্ট না করেই। শুধুমাত্র আটকোনা আকৃতির সৌর প্যনেল এর কাঠামোর উপরের বৃষ্টির পানি বর্তমান নকশায় কুয়ার ভিতর পড়ে। কাঠামোটিকে সম্প্রসারণ করতে হবে অস্থায়ী হিসাবে, যাতে কুয়ার আশেপাশের চাষযোগ্য জমি নষ্ট না হয়। বৃষ্টি বিহীন সময়ে কাঠামোটিকে গুটিয়ে রাখতে হবে। পলিথিন, রেক্সিন অথবা ত্রিপল খুব সহজেই গুটিয়ে রাখা যায়। পুরো পদ্ধতিটিকে অটোমেশন করতে বৃষ্টির জন্য আর বাতাসের গতির জন্য সেন্সর ব্যবহার করতে হবে। বৃষ্টি হলেও ঝোড়ো আবহাওয়াতে এটি সম্প্রসারিত হবে না। ফলে ঝড়ের হাত থেকে কাঠামোটিকে সয়ংক্রিয় ভাবে রক্ষা করবে। শুধুমাত্র রাতের বেলা অস্থায়ী কাঠামোটির সম্প্রসারণ বা গুটিয়ে রাখা সচল রাখার জন্য ব্যাটারী থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন কৌশল হিসেবে লবণাক্ত জমিতে মিনি পুকুর খননের মাধ্যমে মিষ্টি সেচ পানি ধরে রেখে সবজি, তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি।
লবণাক্ত অঞ্চল<br><br> একটি জমির ৫ ভাগের এক ভাগ পুকুর কেটে ঐ মাটি দিয়ে জমির বাকী অংশ উঁচু করা হয়। বর্ষার সময় ঐ সমস্ত পুকুরে মিঠা পানি জমা হয় এবং ঐ মিঠা পানিতে মাছ চাষ করা হয় এবং উঁচুকৃত বেডে সবজিসহ অন্যান্য ফসলে ঐ মিঠা পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা হয়। পুকুর পাড়ে লতানো সবজির জন্য পুকুরের ভিতরের দিকে ঝুলন্ত মাচা তৈরির কারণে পুকুরের পানির জলীয় বাষ্প নির্গমন কমে যায় ফলে দীর্ঘ দিন পুকুরে পানি ধরে রাখা যায় যা পরবর্তীতে শুষ্ক মৌসুমেও সেচ কাজে ব্যবহৃত হয়। মিনি পুকুর খননের মাধ্যমে মিঠা পানি ধরে রেখে সবজি, তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি তথা কৃষকের আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।